
নতুন দিল্লি, ৩১ অক্টোবর, ২০২৩।। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ১লা নভেম্বর সকাল ১১ টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যৌথভাবে ভারতীয় সহায়তায় তৈরী তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এই তিনটি প্রকল্প হলো আখাউড়া-আগরতলা অন্ত-সীমান্ত রেল লাইন, খুলনা - মংলা বন্দর রেল লাইন এবং মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের ২ নম্বর ইউনিট। আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ প্রকল্পটিতে বাংলাদেশের অংশে খরচ হয়েছে ভারতীয় মুদ্রায় ৩৯২ কোটি ৫২ লাখ টাকা | এই প্রকল্পে বাংলাদেশের ভেতরে ৬.৭৮ কিলোমিটার এলাকায় ডুয়েল গেজ রেললাইন এবং ত্রিপুরায় ৫.৪৬ কিলোমিটার রেল লাইন সহ মোট রেল সংযোগের দৈর্ঘ্য ১২.২৪ কিলোমিটার।
এছাড়া অন্য দুইটি প্রকল্পের একটি হল, বাংলাদেশের খুলনা-মংলা বন্দর রেললাইন প্রকল্প। ভারত সরকারের লাইন অফ ক্রেডিট-এর মাধ্যমে আর্থিক ছাড় দিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে এই প্রকল্পটি, যার মোট প্রকল্প ব্যয় ৩৮৮.৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে, বাংলাদেশের মংলা বন্দর এবং খুলনায় বিদ্যমান রেল নেটওয়ার্কের মধ্যে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর মংলা ব্রডগেজ রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে চলছে । মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট ভারতীয় কনসেশনাল ফাইন্যান্সিং স্কিমের অধীনে ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তায় বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের রামপালে অবস্থিত একটি ১৩২০ মেগাওয়াট (৬৬০ মেগা ওয়াত ক্ষমতার দুই ইউনিট) ক্ষমতার সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট (MSTPP) নির্মান। প্রকল্পটি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)এর মাধ্যমে রূপায়িত হয়েছে| এটি ভারতের এনটিপিসি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি ৫০:৫০ শেয়ারের যৌথ অংশীদারিত্বের কোম্পানি। মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রথম ইউনিট ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে উন্মোচন করেছিলেন এবং আগামীকাল ১ লা নভেম্বর এর দুই নম্বর ইউনিট এর উদ্বোধন করা হবে। মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের শক্তি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে। তাছাড়া, এই অঞ্চলে পারস্পরিক যোগাযোগ, সংযোগ এবং শক্তি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে।